যে কারণে মঞ্চে ‘আম্মাজান’ গাইতেন না আইয়ুব বাচ্চু বললেন কাজী হায়াৎ!

আইয়ুব বাচ্চু একজন বাংলাদেশী সঙ্গীতজ্ঞ, গায়ক-গীতিকার এবং গীটারবাদক ছিলেন। তিনি রক ব্যান্ড এল আর বি এর গায়ক ও গীটারবাদক হিসেবে পুরো বিশ্বে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন। তাকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীতের ধারায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী এবং গীটারবাদক বলা হয়।
ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে সুপারহিট গানের সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে সেই তালিকায় স্থান পাবে ১৯৯৯ সালে, মুক্তি পাওয়া কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ সিনেমার টাইটেল সংগীত ‘আম্মাজান’।

ব্যান্ডশিল্পী হয়ে সিনেমায় গেয়ে তখন বেশ আলোচনায় এসেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। তারপর বেশ কয়েক বছর প্লেব্যাকে নিয়মিত ছিলেন এই ব্যান্ড তারকা।

‘আম্মাজান’ সিনেমায় আইয়ুব বাচ্চু গান করেছিলেন প্রয়াত নায়ক মান্নার জোরাজুরিতে। সেই গল্পে এক সাক্ষাৎকারে কাজী হায়াৎ বলেন, “আমার মিউজিক ডাইরেক্টর ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল। ‘লুটতরাজ’ ছবি, গান হবে, হঠাৎ করে মান্না একদিন বলতেছে, হায়াৎ ভাই আমি একটা গান করাতে চাই আইয়ুব বাচ্চুকে দিয়ে। আমি আইয়ুব বাচ্চুর নাম শুনেছি, তখন আইয়ুব বাচ্চু বেশ জনপ্রিয়, ব্যান্ড গানে। তাঁকে দিয়ে সিনেমার গান কীভাবে হবে, বুলবুল বেশ কিছুটা অবাক হচ্ছিল। না মান্না, এটা হয় না। সে তো অন্য ধরনের গলা, সিনেমার গান তাঁকে দিয়ে…

মান্না বলল, না, আমি তাঁকে দিয়ে এক রোমান্টিক গান করাব। তখন বুলবুল লেখার বিষয়েও সতর্ক হলো, নিজে লেখক। সতর্ক হয়ে যে সুরে গাইতে পারবে আইয়ুব বাচ্চু, সেই সুরে লেখা ও সুর করা হলো। গাওয়া হলো, পরবর্তীতে সুপারহিট হলো।

সিনেমায় আইয়ুব বাচ্চুর গান প্রচারের পর সবাই অবাক হয়েছিল। সেই গল্পে কাজী হায়াৎ বলেন, ‘যখন পিকচারাইজড হয়, তখন সবাই বলছিল গানটা কে গেয়েছে, কে গেয়েছে, নতুন কণ্ঠ। সিনেমায় কখনো এই কণ্ঠ শোনা যায়নি। তখন সবাই অবাক হচ্ছিল, ব্যান্ডের শিল্পী দিয়ে সিনেমার গান, এ তো নতুন কথা। সবাই কিছুটা অবাকও হচ্ছিল, নিরুৎসাহিতও হচ্ছিল। কিন্তু গান আল্টিমেটলি হিট হয়ে গেল।এরপর আমার ছবির জন্য সেও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকত, বুলবুলও প্রস্তুত থাকত, আমিও প্রস্তুত থাকতাম। মিনিমাম একটা-দুইটা গান তো আইয়ুব বাচ্চুর হবেই।’

তবে ‘আম্মাজান’ গান এত সুপারহিট হলেও কখনো মঞ্চে গাইতেন না আইয়ুব বাচ্চু। সিনেমাটির পরিচালক কাজী হায়াতের দাবি, অনুরোধের পরও গানটি মঞ্চে গাইতেন না আইয়ুব বাচ্চু।কেন গাইতেন না, সে প্রসঙ্গে কাজী হায়াতের বক্তব্য, “আমার কাছে ওর একটি গান সবচেয়ে ভালো লাগে, আমি গাইতে পারি। আসলে ও একটা ভিন্ন মাত্রার গায়ক ছিল। তবে ওর প্রতি আমার কষ্টও আছে, দুঃখও আছে আমার। সেটি হলো

এই ‘আম্মাজান’ গানটা এত সুপারহিট হয়েছে, সে কখনো কোনো স্টেজে গায়নি গানটা। অনুরোধ করা সত্ত্বেও সে গায়নি। কেন গায়নি, আমি জানি না। পরবর্তী সময়ে ওর কাছে যেটা শুনেছি, ও অ্যালবামের জন্য বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল, অনেক টাকা দিত ওকে ইয়ারলি। তাদের নিষেধ ছিল সিনেমার গান গাওয়ার।

পরে সিনেমার গান গাওয়া বন্ধ করে দিল। আর সিনেমার গানের বিষয়টি যেটা হয়েছিল, গান যারা কিনে নিত তারা যা করত, ওর যে ক্যাসেট মার্কেটটা ছিল, সিনেমার গানের জন্য পড়ে গেল। যার ফলে ওর মেইন যে মার্কেট, সিনেমার গান গেয়ে কত টাকা পেত, তখন বড়জোর পাঁচ থেকে শুরু করেছিলাম, দশে গিয়েছিলাম বোধ হয়। তো, এই টাকা পেত দশ হাজার। আর একটা অ্যালবামের গান গেয়ে অনেক টাকা পেত। এক লাখ, দেড় লাখ, দুই লাখ টাকা…।

‘আম্মাজান’ কাজী হায়াৎ পরিচালিত ১৯৯৯ সালের অপরাধধ’র্মী সিনেমা। এটির প্রযোজক ও কাহিনিকার মনোয়ার হোসেন ডিপজল এবং চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন কাজী হায়াৎ। নাম ভূমিকায় (আম্মাজান) অভিনয় করেন শবনম এবং তাঁর পুত্রের ভূমিকায় অভিনয় করেন মান্না। এ ছাড়া অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী, আমিন খান, ডিপজল, মিজু আহমেদ প্রমুখ। ছবিটি ১৯৯৯ সালের ২৫ জুন মুক্তি পায়। সে বছরের অন্যতম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র এটি। ২৪তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে কাজী হায়াৎ শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার বিভাগে পুরস্কার লাভ করেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*