সচিবের অসুস্থ মায়ের সেবায় ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী, যা বললেন মন্ত্রী

করোনা আক্রান্ত হয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের করোনা ইউনিটে ভর্তি আছেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদের মা। তার চিকিৎসাসেবার কাজে মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরের ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সোমবার (২৩ আগস্ট) একটি বেসরকারি টেলিভিশনে খবর প্রকাশ হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এ বিষয়ে কথা বলেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম।

মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচিবের করোনাক্রান্ত মাকে সহানুভূতি ও আবেগের জায়গা থেকে দেখতে গেছেন। তিনি বলেন, ‘সচিব আমাকে বলেছেন যে তার মাকে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তিনিও শারীরিকভাবে দুরবস্থায় আছেন। এ অবস্থায় আমাদের মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু কর্মকর্তা তার মাকে সহানুভূতি জানাতে গেছেন। এ ক্ষেত্রে উপচেপড়া ভিড় হওয়ার কারণে তারা নিজেরা পর্যায়ক্রমে হাসপাতালে গেছেন সহানুভূতি জানাতে।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বলেন, ‘আমি সচিবের কাছে জানতে চেয়েছি যে কোনো কর্মকর্তাকে বাই রোটেশন (পর্যায়ক্রমে) ডিউটি করতে বলা হয়েছে কিনা? তিনি বলেছেন, এটা সম্পূর্ণরূপে অসত্য। বাই রোটেশন তো দূরের কথা, অফিশিয়ালি কাউকে কিছু বলা হয়নি।’

গণমাধ্যমে তাহলে কী ভুল সংবাদ এসেছে? জবাবে শ ম রেজাউল বলেন, ‘গণমাধ্যমে নিউজের একটি জায়গায় দেখেছি, শুধু দায়িত্ব দেয়া না রীতিমত চিঠি ইস্যু করে, মন্ত্রণালয়ে চিঠি ইস্যু হলে স্মারক নম্বর থাকে, কর্মকর্তা কর্মচারী বা কনসার্ন অফিসারের স্বাক্ষর থাকে, আমি এটা চেক করে দেখেছি, মন্ত্রণালয় থেকে এরকম কোনো চিঠি ইস্যু করা হয়নি।’

সচিবের মাকে এতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখতে যাওয়া অতিউৎসাহী কাজ কিনা এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘এর বাইরে তো আমার বলার কিছু নেই। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো চিঠি ইস্যু করা হয়নি এটা আমি নিশ্চিত হয়েছি। সচিবকে জিজ্ঞেস করেছি, তিনিও বলেছেন, না, আমি ভারবালিও কাউকে কোনো দায়িত্ব দিইনি। কাউকে কোনোভাবে আমার মাকে দেখভালের দায়িত্ব দিইনি। এখন আমার অসুস্থ, তাকে সহানুভূতি জানাতে হয়তো কেউ যেতে পারেন। করোনায় হয়তো একসঙ্গে অনেকে না গিয়ে এভাবে (আলাদাভাবে) কেউ যেতে পারেন। গেছেন এটা উনি ওভাবে বলেননি, এভাবে কেউ যেতে পারেন, সেটা নিজ দায় দায়িত্বে যদি কেউ যেয়ে থাকে। লিখিতভাবে বা মৌখিকভাবে উনার মাকে দেখার জন্য বা হসপিটালে যাওয়ার জন্য কিছু বলেননি। এটা উনি আমাকে জানিয়েছেন।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*