প্রথম বুকের ওপর বসে গলা কাটেন হাত-পা ও মাথা খণ্ড করে বিভিন্ন এলাকায় ফেলে দেন ফাতেমা।

নিহত ময়না মিয়ার প্রথম স্ত্রী ফাতেমা খাতুন তাকে জবাই করে হত্যা করেন। লাশ গুম করতে হাত-পা ও মাথা কেটে ছয় টুকরো করে বিভিন্ন এলাকায় ফেলে দেন ফাতেমা।

রাজধানীর মহাখালী থেকে মাথা ও হাত-পা বিহীন খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর ফাতেমার দেখানো জায়গা থেকে তার বোরখা, নিহতের রক্তমাখা জামা কাপড়, ছুরি ও অনান্য জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। গত রোববার রাতে মহাখালী এলাকা থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর ওয়ারলেস এলাকার টিএনটি মাঠ সংলগ্ন ঝিল থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মহাখালীর আমতলি এলাকা থেকে কাটা দুই হাত ও পা উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ।’

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘খণ্ডিত মরদেহের উদ্ধারের পর নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তার স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ। এরপর বনানীর কড়াইল বস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিহতের প্রথম স্ত্রী মোছা. ফাতেমা খাতুনকে গতকাল সোমবার গ্রেপ্তার করে ডিবি গুলশান বিভাগ।’

আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার বর্ননা দিয়ে তিনি জানান, গত ২৩ মে থেকে তার স্বামী ময়না মিয়া তার সঙ্গে তার বাসাতেই ছিলেন। কিন্তু টাকা পয়সা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। তখন ফাতেমা তার স্বামীকে একাই হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক তিনি তার স্বামীকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। এতে ময়না মিয়া নিস্তেজ হয়ে এক দিন বাসায় ঘুমান। পরের দিন একটু সতেজ হলে পানি চান ময়না মিয়া। কিন্তু আবারও জোর করে ওষুধ মিশ্রিত জুস খাওয়ান তার স্ত্রী ফাতেমা।

পুলিশ জানায়, পরের বার ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর ময়নার হাত বেঁধে ফেলেন ফাতেমা। এ সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে খাট থেকে দুজনই পড়ে যান। তখন ফাতেমা তার ঘরে থাকা ধারাল ছুরি দিয়ে ময়না মিয়ার বুকের ওপরে বসে গলা কেটে দেন। এরপর ময়না মিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত হলে লাশ গুম করতে মাথা ও হাত পা কেটে আলাদা আলাদা ব্যাগে ঢুকান ফাতেমা। পরবর্তীতে একটি রিকশায় করে ব্যাগগুলো নিয়ে মহাখালী ও গুলশান লেক এলাকায় ফেলে দিয়ে যান।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*